Bagnan High School-HS

Bagnan High School-HS

বাগনান হাই স্কুল বাগনান, হাওড়া কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মের‌ও পূর্বে, ১৮৫৪ সালে মাত্র ১০ – ১২ জন ছাত্র নিয়ে, যাদের অধিকাংশ‌ই বয়স্ক, তখনকার কটক রোডের উত্তর গায়ে জমিদার হেমচন্দ্র ঘোষের কাছারি বাড়ির পূবের বারান্দায় শুরু হয়েছিল আজকের বাগনান হাই স্কুলের পথ চলা। ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পাঠানো ও প্রশিক্ষিত একজন মাত্র শিক্ষক, উদ্যেশ্য তাঁর,‌ কোনরকমে সংখ্যা ও অক্ষরের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে ৪-৬ মাসের মধ্যেই ছাত্রদের কোম্পানির “মার্কার” চাকরির উপযুক্ত করে তোলা। ১৮৫৬ ‘র শেষদিকে,অনাহুত এক পথিক অতিথির নজরে পড়ল স্কুলটি। পরিখার ওপর সাঁকো পার হয়ে কাছারি চত্বরে ঢুকলেন উনি। ইনিই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়। তাঁর‌ই পরামর্শে ও আশির্বাদধন্য হয়ে হেমচন্দ্র খাদিনান শিবতলায় চার কামরা চালা ঘর বানিয়ে ১৮৫৭ সালের জানুয়ারির প্রথম সোমবার শুরু করলেন ” বাগনান বয়েজ স্কুল “। শিক্ষক দুজন, ব‌ই পত্র স্লেট খড়ি সহ বিদ্যাসাগর‌ মহাশয় স্বয়ং পাঠিয়েছেন তাঁদের। আমৃত্যু ( ১৮৯১ ) বিদ‍্যাসাগরের কৃপাদৃষ্টি লাভ করেছিল এই বিদ্যালয়। কিছুদিন পরে পঠন –পাঠন দশম শ্রেনী পর্যন্ত হয়। স্কুলের নাম পরিবর্তিত হয়ে নতুন নাম বাগনান হাই স্কুল। ১৮৭৫ -৭৬ সালে প্রথম ৩ জন ছাত্র এন্ট্রাস পরীক্ষায় বসার যোগ্যতা অর্জন করে ও প্রত্যেকেই উত্তীর্ণ হয়। ১৮৭৭ এর জুলাই মাসে বাগনান হাই স্কুল উঠে আসে বাগনান রথতলায়, নীলকর সাহেবদের খালি কুঠিবাড়িতে। ছাত্র সংখ্যা তখন ২০০ ‘র কাছাকাছি। ১৯২০ সালে বাগনান ষ্টেশনের কাছেই, কিছুটা উত্তরে, শ্রীমতি প্রকাশ নলিনী দেবীর দান করা জমিতে পাঁচ বছর ধরে নির্মানকাজ চলার পর ১৯২৫ সালে আজকের বাগনান হাইস্কুলের প্রাচীনতম বাড়িটি তৈরি হলে, রথতলা থেকে উঠে আসে স্কুল। ছাত্রসংখ্যা বাড়তে থাকে হু হু করে। স্কুলের পঠন পাঠনের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে শেষ পরীক্ষার ফল‌ও আশাতীতভবে ভাল হতে থাকে। বাগনান হাইস্কুলের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে। কিন্তু আবার বিপত্তি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হিড়িকে ১৯৪৩ সালে আহত সৈনিকদের চিকিৎসা, সেবা শুশ্রূষার জন্য গভরনমেন্টের আদেশে স্কুলবাড়ি খালি করে দিতে হয়। স্থান সংকুলান না হলেও আবার রথতলার বাড়িতেই ফিরে যেতে হয় বাগনান হাই স্কুলকে। সামান্য কয়েকজন আহত সৈনিকের সঙ্গে স্থানীয় মানুষজনের চিকিৎসাও চলতে থাকে বাগনান স্কুলের বাড়িতে তৈরি হাসপাতালে। ঘটনাপ্রবাহ চলতে থাকে। যুদ্ধ থামে, ভারতবর্ষ ত্রিখন্ড হয়ে দেশ স্বাধীন হয়। কৃষি শিল্প শিক্ষা স্বাস্থ‍্য – সবকিছু, এক কথায় দেশ পুনর্গঠনের জোয়ার আসে। বাগনান হাই স্কুল আবার বছর দশেক পরে ফিরে আসে ষ্টেশনের কাছে তার পুরনো ভবনে। ১৯৬০ সালের ভয়ঙ্কর আকাশ-বন্যা, ‘৭৮ এর সর্বগ্ৰাসী প্লাবন, রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাত পট পরিবর্তন, কিছুতেই থেমে থাকেনি বাগনান হাইস্কুলের অগ্ৰগতি। ঈশ্বরচন্দ্র,আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র, বিপ্লবী বাঘা যতীন, ডঃ সত্যেন্দ্রনাথ বোসু, আচার্য বিনোবা ভাবের মত মহামানবের পদরজধন্য ও বহু জ্ঞানী গুণী মহান শিক্ষকের কর্মস্থল এবং অসংখ্য যশস্বী কৃতী ছাত্রের ধাত্রী এই মহান বিদ্যালয়ের আছে অনেক অনেক কিছু। আবার অনস্বীকার্যভবে কিছু অভাব‌ও আছে। আছেঃ ১৯২৫ সালের আদি ভবনটির সঙ্গে বিজ্ঞান ভবন, বানিজ্য ভবন সহ আরো দু-দুটি বিশাল ভবন। ৫১টি শ্রেনীকক্ষ, ৩১৯৬ জন ছাত্র, ৬৩জন শিক্ষক শিক্ষিকা, ৪ জন অশিক্ষক কর্মী। আছে সুন্দর কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা। লাইব্রেরি আছে, লাইব্রেরিয়ান‌ও আছেন, তবে লাইব্রেরিয়ান স্যারকে পড়াতেও হয়।

বাগনান স্পেশাল